১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিআরএমসিতে হবে ‘শেখ জামাল ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ ল্যাব’
গেইমিং টুর্নামেন্ট, বুট শো-কেসিং, টেকক্যুয়েস্ট হান্ট ও বাজার কুইজ, ইনোভেশন প্রজেক্ট ডিসপ্লে, প্রোগ্রামিং কনটেস্ট, ওয়েবসাইট ডিসপ্লে, লাইন ফলোয়িং রোবট, লোগো ডিজাইন, টেক আর্টিকেল রাইটিং- এমন নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে রবিবার শেষ হলো ডিআরএমসি আন্তর্জাতিক টেক কার্নিভাল। এতে দেশের চার শতাধিক খ্যাতনামা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দ্বিতীয় পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ লে. শেখ জামাল এর স্মৃতিকে স্মরণ করে নতুন উদ্যোক্তাদের এই আয়োজনের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে খেলবো। এই প্রকল্পের জন্য ৫ লক্ষ টাকা অনুদান পেয়েছে সাজ্জাদুল ইসলাম ও সাইফুল আলম অভি। এছাড়াও প্রথম রানার্স আপ ‘স্পার্ক ব্রেইল সল্যুশন’ প্রকল্প ৩ লক্ষ টাকা এবং দ্বিতীয় রানার্স অধিকারী ‘কিশোরী’ উদ্যোক্তা শাহরিয়ার প্রান্তর দলকে ২ লক্ষ টাকা এবং একই সাথে সেরা পরবর্তী আরো ১০টি স্টার্টআপ এর প্রতিটির জন্য ১ লক্ষ টাকা করে শেখ জামাল ইনোভেশন গ্রান্ট-২০২৪ মোট ২০ লক্ষ টাকা প্রদান করে আইডিয়া প্রকল্প। এই অনুদান দেয়া হয় মোট ১৩ জন নতুন উদ্যোক্তাকে।
দুই দিনের কার্নিভালের সমপানীতে প্রতিযোগীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ ছাড়াও ডিআরএমসি ক্যাম্পাসে ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ‘শেখ জামাল ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ ল্যাব’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। একইসঙ্গে বড় পরিসরে এই কার্নিভাল আয়োজনের জন্য টাকা প্রতিবছর ৫০ লাখ টাকার স্পন্সর দেয়ার ঘোষণাও দেন প্রতিমন্ত্রী।
রাজধানী ঢাকার মোহাম্মাদপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু পুত্র শহীদ লেফটেন্যান্ট শেখ জামালের শিক্ষাজীবন কাটানো এই রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ ক্যাম্পাসে একটি ফেব্রিকেশন ল্যাব এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পূর্ণ আরেকটি স্পেশালাইজ ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হবে বলেও জানান জুনাইদ আহমেদ পলক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আগামী বছর এই ইন্টারন্যাশনাল টেক কার্নিভালে নিজের একটি ডিজিটাল টুইন্স উপহার দিতে উপস্থিত কিশোর উদ্ভাবকদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি আগামী বছর এই ইন্টারন্যাশনাল টেক কার্নিভাল থেকে আমার একটা ডিজিটাল টুইন্স তোমাদের কাছ থেকে উপহার চাই। যেই ডিজিটাল টুইন্স তোমরা তৈরি করবে। যেটা পলকের মতো দেখতে হবে, পলকের কন্ঠে কথা বলবে কোন প্রশ্ন করলেও একটা এআই ব্রেইন হিসেবে আমার মতই উত্তর দিবে।
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামীম ফরহাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যোর মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আইডিয়া প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, প্রধান সমন্বয়ক সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ নূরুন্নবী, সহকারী অধ্যাপক এবং কার্নিভালের আহবায়ক রাসেল আহমেদ।
এর আগে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এর উপস্থিতিতে উদ্ভাবন উন্নয়নে কাজ করার লক্ষ্যে আইডিয়া প্রকল্প ও ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে শুরু হওয়া প্রায় তিন মাসব্যাপী এ কার্নিভালে অনলাইনে স্টার্টআপ সাবমিশন গত ১ এপ্রিল ২০২৪ তারিখ পর্যন্ত চলে এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সেরা দশটি ইনোভেশন গ্রান্ট ০৯, ১০ ও ১১ মে ২০২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত স্টার্টআপ ডিসপ্লেতে ছিল।







